ঈদ মানে আনন্দ, প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্য। সারা বছরে শত কর্ম ব্যস্ততার মধ্যেই এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি আমরা। এই আনন্দ যদি হয় ভোগান্তির তাহলে তো দুর্ভোগের শেষ থাকে না। বিগত বছরগুলোতে এই দুর্ভোগে পড়তে হতো উত্তর জনপদের মানুষের। তবে এবারের ঈদুল ফিতরে উত্তরের মহাসড়কে ভোগান্তির আশঙ্কা নেই।

ঈদের আগে মহাসড়কে নির্মিত ১১টি উড়াল সেতুর মধ্যে নয়টি ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়ক খুলে দেয়া হবে। এছাড়া ঈদে যানজটের হটস্পটখ্যাত উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল গোলচত্বরের ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সার্ভিস সড়কটিও খুলে দেয়া হবে। এতে ঈদযাত্রা ভোগান্তিমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্বাভাবিক সময়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল গোলচত্বর হয়ে প্রতিদিন উত্তরের ১৬ ও দক্ষিণের পাঁচটি জেলার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদ বা যেকোনো উৎসরের আগে একই পথে যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। ফলে মহাসড়কে যানজটে ভোগান্তির শিকার হয় ঘরমুখো মানুষ।

সাধারণ মানুষের এ সমস্যা সমাধানের জন্য নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এগুলো হচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা, যানজট নজরদারিতে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার, ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর গাড়ি মহাসড়কে চলতে না দেয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সমন্বয়ে গঠিত কমিউনিটি পুলিশ মোতায়েনসহ দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা। এছাড়া উড়াল সেতু ও ইন্টারচেঞ্জের সার্ভিস সড়ক চালু করা হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, হাটিকুমরুল গোলচত্বরে নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। ঈদের আগে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সার্ভিস সড়ক খুলে দেয়ার জন্য দিনরাত কাজ করছেন শ্রমিকরা। ঈদের আগে এই সড়ক চালু হলে ঈদযাত্রা স্বস্তি ও আরামদায়ক হবে বলে জানিয়েছেন যাত্রী ও চালকরা।

ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মহাসড়কের রবিউল ইসলাম নামে এক বাসচালক বলেন, ‘আমি প্রায় ১০ বছর যাবৎ এ রোডে বাস চালাই। প্রতি ঈদেই এ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো সময় আমরা যানজটে আটকে রাস্তায়ও ঈদ করেছি। এ বছর যদি ইন্টারচেঞ্জের ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের সার্ভিস সড়ক খুলে দেয়া হয় তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদযাত্রা স্বস্তির হবে। মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হবে না আমরা আশা করছি।’

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘ঈদযাত্রা খুবই স্বস্তিদায়ক হবে। মানুষ যানজটের ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারবে। হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।’

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে। ঈদে যানজট নিরসন ও যাত্রীদের ভোগান্তি দূর করতে আমরা ঈদের আগেই সার্ভিস সড়ক খুলে দেয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে ঈদে হাটিকুমরুল গোলচত্বরের ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের অধিক চাপ থাকে। তাই এই সার্ভিস সড়ক ঈদের আগে খুলে দিলে মহাসড়কে একেবারেই যানজটের সৃষ্টি হবে না। এবারের ঈদযাত্রায় ইন্টারচেঞ্জের সুবিধা ভোগ করবে মানুষ।’