চাকরিতে পুনর্বহাল ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মোহাম্মদী গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এম.জি. নীট ফ্লেয়ার লিমিটেডের ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা। কাজে পুনর্বহাল করা না হলে শ্রম আইন অনুযায়ী তাদের সকল পাওনা পরিশোধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় ছাঁটাইকৃত শ্রমিকবৃন্দের ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করেন তারা। এ সময় শ্রমিক নেতারা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বিষয়টির সমাধান, মামলা প্রত্যাহার ও ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান এবং দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের সহকর্মী নারী পোশাক শ্রমিক শেফালী অসুস্থ অবস্থায় কারখানায় এসে ছুটির আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ প্রথমে ‘চাকরি থাকবে না’ বলে তাকে ছুটি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে ছুটি মেলে তার। ছুটি নিয়ে অসুস্থ শরীরে বাসায় ফেরার পর রাতেই মারা যান তিনি— এমন দাবি সহকর্মীদের। পরদিন কারখানায় উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এর জেরে কর্তৃপক্ষ ১৮ জন শ্রমিককে কারণ দর্শানোর নোটিশসহ সাময়িক বরখাস্ত করে এবং পরবর্তীকালে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার করে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান তারা।
শ্রমিকরা আরো জানান, তাদের আরো ৬ জন সহকর্মীকে কোনো নোটিশ ছাড়াই কারখানা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। পরে কাজে ফিরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে কারখানার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের গাজীপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার বলেন, ‘শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে শুধু কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তাদের সহকর্মীকে কেন ছুটি দেয়া হয়নি। এতটুকু বিষয়কে কেন্দ্র করে সাজানো মিথ্যা ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে শ্রমিকদের মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, আদালতে জামিন নিতেও বাধা দেয়া হচ্ছে— যাতে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ না পায়।’
বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা সভাপতি রাসেল মন্ডল বলেন, নারী শ্রমিক সকালেই ছুটি পেলে হয়তো দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারতেন, কিন্তু কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগে তাকে ছুটি দেয়নি কর্তৃপক্ষ, যার পরিণতিতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাতেই মারা যান। নিরপরাধ শ্রমিকদের দাবি দ্রুত সমাধান করা না হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শ্রমিকদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি করে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, লেদার ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা কমিটির সহ-সভাপতি তাওহীদ মিয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নারী-পুরুষ শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।