ভারতের দাসত্ব ছেড়েছি ওয়াশিংটনের গোলামির জন্য না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘মানবিক করিডরের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলা যাবে না। এই অপতৎপরতা বন্ধ না হলে দেশপ্রেমিক জনতাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

শনিবার (১৭ মে) বিকাল ৪টার দিকে জেলা শহরের পৌর মুক্তমঞ্চ (কাচারিপাড়) মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা আয়োজন জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, একাত্তর সালে মুক্তিযোদ্ধারা বলেছিলেন, আমরা পিন্ডির গোলামির জিঞ্জির ছিন্ন করেছি, দিল্লির দাসত্ব করার জন্য নয়। ২০২৪-এর জুলাইয়ের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের পর আমি বলতে চাই, আমরা দিল্লির দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছি নিউ ইউর্কের গোলামি করার জন্য নয়। যদি বাংলাদেশকে ওয়াশিংটনের দাসে পরিণত করার কোনো চক্রান্ত করা হয়, হিউম্যানিটেরিয়ান করিডরের নামে বাংলাদেশের বুকের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব হরণ করার জন্য অপতৎপরতা চালানো হয়, মায়ানমার একটি প্রদেশসহ খিষ্ট্রান রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে সারাদেশের মানুষের প্রতি আমার আহ্বান, যুদ্ধের প্রস্তুতি নাও। দেশের জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিংগারবিলের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে। দেশের স্বার্থে কোনো অপস নাই। তারা বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতের অনুপ্রবেশ রুখে দিয়েছে। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

হেফাজতের আন্দোলনে সময় আলেম ওলামাদের নামে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আমাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী আমলে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করেন। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে, আমাদের সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না। ড. ইউনূস আপনি কী সেই কথা ভুলে গেছেন, কয়েক মাস আগেও আমাদের সামনে আদালত পাড়ায় ঘুরতেন। আগামী দু’মাসের মধ্যে যদি হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের নামে মামলা প্রত্যাহার না হয় তাহলে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের যা করতে হয় তাই করবে।’

নারী অধিকার সংস্কারের নামে আল্লাহর কোরআনকে, ইসলামকে কটাক্ষ করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় উত্তরাধিকার বিধান, পারিবারিক বিধানকে নারী-পুরুষের বৈষম্যের প্রধান কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করে নারীবিষয়ক কমিশন এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।’

আমরা বলতে চাই, ‘এই তথাকথিত পশ্চিমা ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী, বিতর্কিত নারীবাদীদের আদর্শ ও দর্শন নয় বরং হেফাজতে ইসলাম প্রদত্ত, আল্লাহ ঘোষিত নারীর ন্যায্য অধিকারে বিশ্বাসী। এজন্য দেশের শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইসলামের বিকল্প নেই। এজন্য দেশে ইসলামী শাসনব্যবস্থা কায়েমে খেলাফত প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে রিকশা মার্কায় ভোট প্রদান করার আহ্বান জানান।’

এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা সভাপতি হাফেজ এমদাদ উল্লাহ সিরাজীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সেক্রেটারি মাওলানা গাজী নিয়াজুল কারীম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজমসহ জেলা ও উপজেলা থেকে খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা সমাবেশ অংশ গ্রহণ করে। এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছয়টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক।