রাজশাহী নগরীতে প্রেমের সম্পর্ক জানিয়ে দেয়ার ঘটনায় ১১ বছর বয়সী শিশু আদিব আহনাফকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তিনি জানান, আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই কিশোর স্বীকার করেছে—প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ক্ষোভ থেকেই আদিবকে হত্যা করেছে সে।

এর আগে, ১ মার্চ রাতে আদিব তারাবির নামাজ আদায়ের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে বিল ধরমপুর কৈচাপুকুর এলাকায় ঘাসক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আরএমপির মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, ঘটনাটি শুরু থেকেই ছায়াতদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। পরে মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ডিবি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।

তদন্তে উঠে আসে, ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিশোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। এ নিয়ে গত রোববার ঘটনায় জড়িত ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে হেফাজতে নেয়া হয়। পরদিন সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

স্বীকারোক্তিতে কিশোর জানায়, এক মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সাথে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি আদিব জানতে পেরে মেয়েটির মাকে জানিয়ে দেয়। পরে মেয়েটির মা বিষয়টি ওই কিশোরের মাকে অবহিত করে। তখন ওই কিশোর মায়ের কাছে মারধরের শিকার হয়। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই সে আদিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন আদিব তারাবির নামাজ পড়তে বের হলে কিশোরটি তাকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তার মাথায় আঘাত করে এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সবকিছু নিশ্চিত হয়েই ওই কিশোরকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।